প্রিন্ট এর তারিখঃ Jun 11, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Jun 11, 2026 ইং
টাঙ্গাইলে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে ট্রেনের নিচে ফেলে হত্যা, দুই শিশুকে রেখে গেলেন মুক্তা

মোঃআনিসুজ্জামান
বিশেষপ্রতিনিধি
*টাঙ্গাইল, ১১ জুন ২০২৬*: ১০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী মুক্তা পারভীনকে (২৮) চলন্ত ট্রেনের নিচে ধাক্কা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে। গত সোমবার সকাল ১০টার দিকে কালিহাতির সল্লা মহাসড়কের পাশে রেললাইনে এ লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ও ঘাতক স্বামীর ফাঁসির দাবিতে বুধবার বৃষ্টিতে ভিজে মানববন্ধন করেছে নিহতের পরিবার ও শত শত এলাকাবাসী। ৬ বছরের আছিয়া ও ২ বছরের হুমায়রাকে রেখে গেছেন মুক্তা।
নিহতের ভাই শাহাদৎ হোসেন অভিযোগ করেন, "২০১৪ সালে প্রেম করে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই সুজন ও তার বাবা-মা ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দিত। সুজনের পরকীয়াও ছিল। ঈদের ছুটিতে বাড়ি না এসে অন্য মেয়ের সাথে সময় কাটিয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "সোমবার সকালে কৌশলে মুক্তাকে রেললাইনের কাছে নিয়ে যায় সুজন। দূর থেকে ঢাকাগামী ট্রেন আসতে দেখে চলন্ত ট্রেনের নিচে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। ঘটনাস্থলেই মারা যায় আমার বোন।"
বুধবার সকাল ১১টায় সল্লা রেললাইনের পাশে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন হয়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে শত শত মানুষ "খুনি সুজনের ফাঁসি চাই" স্লোগান দেন। নিহতের মা-বাবা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
স্থানীয় মজিদ মাতব্বর বলেন, "কয়েকবার মুক্তা বাপের বাড়ি চলে আসছিল। সালিশে হাতে-পায়ে ধরে আবার নিয়ে গেছে। এবার একেবারে মেরেই ফেললো।"
টাঙ্গাইল ঘারিন্দা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই এনামুল মোল্লা জানান, "ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে হত্যা না দুর্ঘটনা নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত চলছে।"
কালিহাতি সার্কেলের এএসপি মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, "অভিযোগ পেয়েছি। আসামি ধরতে ৩টি টিম কাজ করছে। তদন্ত শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক পুনর্জাগরণ বিডি ২৪